ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করার অভিযোগে

0
131

মালদা, ১৩ ডিসেম্বর : বড় সাফল্য পেল ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ফিল্মি কায়দায় জাল পেতে ৬ জন পড়ুয়াকে অপহরণ করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করল ইংরেজবাজার থানার সাদা পোশাকের পুলিশ। ধৃতদের বুধবার রাতে রায়গঞ্জ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ।শুধু তাই নয় অপহরণ হওয়া ছয় ছাত্রকে ও তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয় ইংরেজবাজার থানার সাদা পোশাকের পুলিশ।উত্তর ব্যবসায়ী অপহরণ কাণ্ডে সাফল্য লাভের রেশ কাটতে না কাটতে, ফের একবার সাফল্যের তালিকায় মালদহের ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ফিল্মি কায়দায় জাল পেতে 6 জন পড়ুয়াকে অপহরণ করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করল ইংরেজবাজার থানার সাদা পোশাকের পুলিশ। ধৃতদের বুধবার রাতে রায়গঞ্জ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ।শুধু তাই নয় অপহরণ হওয়া ছয় ছাত্রকে ও তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয় ইংরেজবাজার থানার সাদা পোশাকের পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় রায়গঞ্জ থানার সুভাষগঞ্জের বাসিন্দা তথা দশম শ্রেণির পড়ুয়া সাহেব আলী এবং তার তিন বন্ধু বাবলু মোহন্ত, বাবাই দাস ও  অভি দাসের  সাথে পরিচিত হয় মালদহের ইংরেজবাজার থানার কমলা বাড়ির বাসিন্দা রাজু বলে এক যুবকের ।  টেলিফোনের মাধ্যমে  পরিচয় হয় । এর পাশাপাশি অভিযুক্ত রাজুর সঙ্গে কোচবিহারের দিনহাটার দুই ছাএ  সারূক সেখ এবং মাঝিদুর হকের ও  পরিচিতি হয় ।

এরপর তাদের ছয়জনকে কাজের টোপ দিয়ে মালদায় ডাকে অভিযুক্ত রাজু। অভিযোগ  তাদের কাজ দেওয়ার নাম করে মালদায় নিয়ে এসে প্রথমে শহরের একটি হোটেলে রাখা হয়। এরপর তাদের কাজ দিবে বলে ইংরেজবাজার থানার  মহদিপুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় একটি গোপন ডেরায় তাদের নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ  সেই সময় আকতার আলী এবং তার তিন সঙ্গী আলিউল শেখ, সফিক সেখ আর একজনের নাম জানা যায়নি।  এরা চারজন মিলে তাদের আটকে রেখে ওই ছয়জনের বাড়িতে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করে। কারো বাড়িতে দু’লক্ষ তো কারো কাছে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে তারা ফোনে যোগাযোগ করে। এই খবর জানতে পেরে গত রবিবার সাহেব আলীর পরিবার এবং তার তিন বন্ধুর পরিবার রায়গঞ্জ থানায় যোগাযোগ করে। এরপর রায়গঞ্জ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। টেলিফোন এর সূত্র ধরে রায়গঞ্জ পুলিশ জানতে পেরে তাদের মালদায় নিয়ে আসা হয়েছে।  সেইমতো গতকাল রাত্রে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ইংরেজবাজার থানার সাদা পুলিশের পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে অভিযুক্তদের ডেরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। জানা যায় এরপর ইংরেজবাজার থানার সাদা পোশাকের পুলিশ ফিল্মি কায়দায় অপহরণ হওয়া ওই ছয় জন পরিবারের একজন সদস্য কে অপহরণকারীদের ফোন করে মুক্তিপণ দেওয়ার কথা জানান। সেইমতো  বুধবার রাতে  আকতার আলী কে মুক্তিপণ দিতে আসেন অপহরণ হওয়া ওই ছয় পরিবারের এক সদস্যদের কাছে মালদহের ইংরেজবাজার থানার সুস্থানি  এলাকায়। এরপরই পুলিশের বিছানো জালে ধরা পড়ে আকতার আলী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় ওই ছয় জন পড়ুয়াকে মহদিপুর সীমান্ত এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। এরপরই ইংরেজবাজার থানার পুলিশ মহদিপুর এলাকায় হানা দিয়ে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলিউল শেখ, শফিক সেখ সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় অপহরণ হওয়া ওই ৬ জন পড়ুয়াকেও। উদ্ধার হয় একটি সাদা অ্যাম্বাসেডর ।স্বভাবতই ইংরেজবাজার থানার এবং রায়গঞ্জ থানার এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ওই পরিবারবর্গ।